সোমবার (০৩ আগস্ট) ফেনীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জুলাই কোন অভ্যুত্থান কালে হত্যা মামলার আসামীর সহ তাদের সমর্থকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অবস্থানকারীদের অভিযোগ, পুলিশের নীরব ভূমিকা ও সহযোগিতার কারণেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ফেনী কলেজ সভাপতি নোমান হাবিব এক মাসের বেশী ফেনীতে অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিছিল করলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা মোহাইমিন তাজিম বলেন, "নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, মিছিল করবে-আর পুলিশ নীরব থাকবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জুলাই যোদ্ধারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"
পরিস্থিতির একপর্যায়ে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ঘটনাস্থলে এসে অবস্থানকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নোমান হাবিবসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
পুলিশ সুপারের আশ্বাসের পর অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা। তবে তাদের দাবি, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এ অবস্থান কর্মসূচীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক অন্যতম সমন্বয়ক মুহাইমিন তাজিম, নুর মোহাম্মদ, আবু জাফর ভূঁইয়া, জিয়া উদ্দিন ও মুয়াজ মুবাস্সিরসহ শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা অংশ নেয়।