বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড সংলগ্ন ‘মুক্ত বাজার’ প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’র চারপাশে সারি বেঁধে রোপণ করা হয় চারাগুলো। পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন রোমেলের পরিচালনায় এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খোন্দকার।
অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিন মামুন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন বাবলু ও জেলা যুবদলের সদস্য বেলাল হোসেন।
শহীদের স্মরণে আয়োজিত এই বৃক্ষরোপণে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জোবায়েদ হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদুল ইসলাম দাউদ, আজিম শরীফ এবং জেলা যুবদলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম আকাশসহ যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী।
সংগঠনের নেতারা জানান, আন্দোলনের সময় ফেনীতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন বীর সন্তান, আর পঙ্গুত্ব ও জখম বরণ করেছেন চার থেকে সাড়ে চার শত'র বেশি মানুষ। সেই আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে যে নতুন আশার ভোর এসেছে, তাকেই যেন প্রতিফলিত করছে এই বাড়ন্ত চারাগাছগুলো।
ফেনী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমাদের এই ভাইদের তাজা রক্তের বিনিময়েই আজকের এই মুক্ত বাতাস। তাদের স্মৃতিকে শুধু ইট-পাথরের বেদিতে বন্দি না রেখে আমরা চাই তা বেঁচে থাকুক সবুজের ছায়ায়। এই গাছগুলো যখন বড় হবে, তা থেকে মানুষ যেমন বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে, তেমনি তীব্র রোদে খুঁজে পাবে একটু স্বস্তির ছায়া। প্রতিটি সবুজ পাতা প্রতিদিন মানুষকে মনে করিয়ে দেবে আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগের গল্প।
ট্রাংক রোডের ধুলোবালি ও যান্ত্রিক গোলমালের মাঝে বৃক্ষের এই চারাগুলো যেন একেকটি স্মারক। দিনশেষে প্রতিটি চারাগাছ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে জানান দেবে—যারা দেশের জন্য জীবন দেয়, তারা শেষ হয়ে যায় না; বৃক্ষ হয়ে, ছায়া হয়ে, অক্সিজেনের তাজা প্রবাহ হয়ে তারা থেকে যায় নিজের জন্মভূমির রন্ধ্রে রন্ধ্রে।