শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বগুড়ার ব্যাডস খেলার মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে আসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিরাম রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গত সাত বছর ধরে ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অসহায় মানুষের মধ্যে নতুন বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করে আসছে স্বর্ণগ্রাম। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্বর্ণগ্রামের উপদেষ্টা মো. আকতারুজ্জামান সরকার মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বর্ণগ্রামের উপদেষ্টা আবু সালেহ নয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম সরকার।
বক্তারা বলেন, মানুষের পরিচয় ও ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবিকতার জায়গায় সবাই এক। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা স্বর্ণগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য। দুর্গাপূজার আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে স্বর্ণগ্রামের সভাপতি ও ব্যাডস নার্সিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক নূর আলম সরকার উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুনজুর আহমেদ মুক্তা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বর্ণগ্রামের সহসভাপতি ও উত্তরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক আহম্মেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা শ্রী বিজয় কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত সরকার, অর্থ সম্পাদক শ্রী লক্ষ্মণ রায় এবং সদস্য আব্দুল রাজ্জাক, রশিদ সরকার ও মো. সাইদুলসহ অন্যরা।
স্বর্ণগ্রামের সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু দুর্গাপূজাই নয়, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও শীত মৌসুমেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় সংগঠনটি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাদের মাসিক বেতন পরিশোধে সহায়তা করা হয়। ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তা ও শিক্ষাবৃত্তির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
উৎসবকেন্দ্রিক এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বর্ণগ্রাম আবারও তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—ধর্মীয় উৎসবের সৌন্দর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং মানুষের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এবং সবার মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিহিত।