পাঁচ গোলের থ্রিলারে ৩-২ গোলে জিতল রিয়াল। ষষ্ঠ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনাকে ছুঁলো তারা। লেভান্তে থেকে গ্রীষ্মের চুক্তিতে আসা কার্লোস এসপি চলিত মৌসুমে দ্বিতীয়বার বেঞ্চ থেকে উঠে এসে রিয়ালকে উদ্ধার করলেন। এস্পানিওলের বিপক্ষে প্রথম লিগ ম্যাচেও বদলি নেমে দলকে জেতান তিনি।
এলচে গোলকিপার মাতিয়াস দিতুরোর আত্মঘাতী গোল ও ষষ্ঠ লিগ ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের সপ্তম গোলে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এলচে গোল শোধ দেয়। ৭১ মিনিটে গোল করেন আবিয়েল ওজোরিও। বদলি নামা ফার নিনো ৮৩তম মিনিটে সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে গোল করে এসপি হোসে মরিনিওর দলকে তিন পয়েন্ট এনে দেন।
সম্প্রতি রিয়াল বেতিসের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাদ্রিদ। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে তারা হারায় ইন্টার মিলানকে। তারপর শনিবার রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়।
এস্তাদিও মার্তিনেজ ভালেরিওতে রিয়ালের দ্বিতীয় মিনিটে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। আনমার্কড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যাকপোস্ট থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান সাইড ফুটে বল বাইরে মেরে তা নষ্ট করেন।
আর্দা গুলারের ক্রসে ডিন হুইসেনের হেড রুখে দেন এলচে গোলকিপার দিতুরো। ওসোরিওর একটি প্রচেষ্টা বাইরে দিয়ে গেলে স্বাগতিকরা ইঙ্গিত দেয়, ম্যাচ একপেশে হবে না।
কিন্তু মাদ্রিদ ২৫তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়। ফেদেরিকো ভালভার্দেকে ফাউল করেন সাঙ্গারে। গুলারের ফ্রি কিক গোলপোস্টে আঘাত করে। তারপর দিতুরোর গায়ে লেগে জালে ঠিকানা খুঁজে নেয় বল। অতিথি দল ৩৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ডানপ্রান্ত থেকে ইয়ান দিওমান্দের বাড়ানো বল দিতুরোর বাঁ পাশ দিয়ে জালে ঠেলে দেন এমবাপে।
প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল রিয়াল। কিন্তু এলচের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাও ছিল দেখার মতো। ওসোরিওর শট অল্পের জন্য গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। তেতে মোরেন্তের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে মরিনিওর দল রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে আক্রমণের চেষ্টা করে। কিন্তু গুলারের ক্রসে বল বাইরে মেরে ভিনিসিয়ুস আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন। গোলমুখের সামনে কয়েকবার ব্যর্থতার মাশুল দিতে হয় রিয়ালকে। বদলি খেলোয়াড় লুকাস কেপেদার বাইলাইন থেকে ক্রসে ওসোরিও নিচু হেডে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন।
দিওমান্দের একটি প্রচেষ্টা ব্লক করে এলচে এবং ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের একটি ফ্রি কিকে রিয়ালের সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর দ্বিতীয় গোল পায় এলচে। ওসোরিও বেশ সময় নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার ভেতরে ফার নিনোকে খুঁজে পান। বেশ জায়গা পেয়ে নিচু কোনাকুনি শটে জাল কাঁপান নিনো।
এলচে এরপর জয়সূচক গোলের পেছনে ছুটতে থাকে। কিন্তু দিনটা ছিল রিয়ালের। ৮৭ মিনিমটে আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের বদলি নামার চার মিনিট পর জয়ের নায়ক হয়ে যান এসপি। বাম পাশ থেকে এমবাপের ক্রসে ফাঁকা জালে বল জড়ান তিনি। তাতে প্রথম ছয় ম্যাচেই হার নিশ্চিত হয় এলচের।