প্রতি বছরের মতো এবারও তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করে। তবে দলীয় বিভক্তির কারণে এবার কলকাতায় আলাদাভাবে দুটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একটি সমাবেশের নেতৃত্ব দেন মমতা ব্যানার্জী, অন্যটি হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।
কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বলেন, গতকাল দিল্লিতে ছাত্র-যুবকদের ওপর কী ধরনের অত্যাচার হয়েছে, তা সবাই দেখেছেন। সংসদ থেকে শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেছেন। অন্যায়-অত্যাচার বন্ধ না হলে মানুষই আন্দোলনের পথ দেখাবে।
তিনি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন। মমতার অভিযোগ, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করে রাজনৈতিকভাবে আচরণ করছেন। তিনি বলেন, পুলিশ এলাকায় এলাকায় বিজেপির সভাপতির মতো কাজ করছে। থানার আইসি যেন ব্লক সভাপতি হয়ে গেছেন। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। আমি জেলায় জেলায় যাব, দেখি কতটা ক্ষমতা আছে।"
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কার্যত অকার্যকর। মানুষ এরই মধ্যে বিজেপির বিদায়ের সংকেত দিতে শুরু করেছে।
দলীয় ভাঙন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মমতা। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই কোনো পদ পাননি। আবার যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তাদের অনেকেই এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চোর ছিল, তারা সবাই বিজেপিতে চলে গেছে। তাদের আর দলে নেওয়া হবে না।
বক্তব্যের শেষদিকে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দেন মমতা ব্যানার্জী। তিনি বলেন, আজ থেকেই নতুন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সামনে নবান্ন অভিযান, রাইটার্স ভবন অভিযান ও লালবাজার অভিযানের মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জেলা সফর এবং দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
মমতা বলেন, আমি দিল্লিতেও যাবো এবং ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে অংশ নেবো।