রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুত থাকা ডিজেলের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে ট্রেন পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও তেলের সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ঈদযাত্রায় গণপরিবহণে তেলের কোনো সমস্যা হবে না এবং রোববার থেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তেল সংকট নিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন না বলেও জানান তিনি।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১০ জোড়া বেশি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে প্রায় ২৯০টি ট্রেন চলাচল করছে। এই সময়ে অতিরিক্ত ট্রেন ও কোচ যুক্ত করার কারণে ডিজেলের ব্যবহারও বেড়ে গেছে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুব চৌধুরী বলেন, বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত কোচ ও ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। অথচ ডিপোগুলোতে তেলের মজুত দ্রুত কমছে। প্রতিটি ডিপোতে অন্তত ৩০ দিনের মজুত থাকার নিয়ম থাকলেও এখন অনেক জায়গায় মাত্র ৭ থেকে ১৫ দিনের তেল রয়েছে। দ্রুত মজুত বাড়ানো না গেলে ট্রেন পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে তুলনামূলক বেশি তেল লাগে। কিন্তু কোনো ডিপোতেই পর্যাপ্ত মজুত নেই। ঈদযাত্রার পর তেলের সংকট তীব্র হলে ট্রেন চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, যে হারে তেলের মজুত কমছে সে অনুযায়ী নতুন করে মজুত বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, চুক্তি অনুযায়ী তারা রেলওয়েকে তেল সরবরাহ করে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বকেয়া পাওনা থাকায় কয়েকদিন ধরে সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী তেল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ঈদের পর তেলের সংকট বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঢাকার ডিপোতে তেলের মজুত খুবই কমে গেছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলে কিছুটা বেশি এবং পূর্বাঞ্চলে তুলনামূলক কম তেল মজুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ডিপোতে অন্তত এক মাসের বেশি ডিজেল মজুত থাকা প্রয়োজন। দ্রুত মজুত বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।