শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ববি হাজ্জাজকে উদ্দেশ করে লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ধরনের শিক্ষার্থী থাকে। একদল সারাদিন লাইব্রেরিতে পড়ে পরে বিসিএস ক্যাডার ও বড় কর্মকর্তা হয়। আরেকদল রাজনীতি ও আন্দোলনে সক্রিয় থেকে এমপি-মন্ত্রী হয়। আরেকদল প্রেম, মাদক ও উদযাপনে ব্যস্ত থেকে পরে বিদেশে পড়তে যায়।
তিনি আরও লেখেন, অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া আঙ্গুর ফল টক গল্পের মতো। সমস্যাটা সিস্টেমে না, অনেক সময় নিজের সক্ষমতা ও মানসিকতায়ও থাকে।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই সবচেয়ে বড় স্বপ্নের জায়গা।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের সর্বোচ্চ ঠিকানা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অক্সফোর্ডে গিয়ে বিদেশি ডগি হওয়ার থেকে দেশের পাবলিকে পড়ে দেশি মানুষ হওয়া অনেক ভালো।
মূলত সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তবে শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পোস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি পডকাস্টে দেওয়া তার মন্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপিত ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই মন্তব্যগুলো ছিল তার ব্যক্তিগত মতামত, যা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।
তিনি বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও জাতি গঠনে এর অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি চান বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।
সবশেষে তিনি বলেন, তার বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় এবং অনেকেই কষ্ট পাওয়ায় তিনি ওই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।