মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং কোনো সংকট হবে না। তিনি জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ এখনও স্থিতিশীল। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানিসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও ডিজেল কেনার পরিকল্পনা আছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের মজুত—
ডিজেল: ১.৮৫ লাখ টন - প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ
অকটেন: ১১ হাজার টন - প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ
পেট্রোল: ১৬,৬০৫ টন - প্রায় ১১ দিনের চাহিদা পূরণ
ফার্নেস তেল: ৭০,৮৩৩ টন - প্রায় ২৯ দিনের সরবরাহ
জেট ফুয়েল: ৩৪,৮৭৭ টন - প্রায় ২৩ দিনের সরবরাহ
কেরোসিন: ৮,৫৭১ টন - প্রায় ৪৬ দিনের সরবরাহ
মেরিন ফুয়েল: ১,৫০০ টন - প্রায় ৪৪ দিনের সরবরাহ
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহে বর্তমানে তিনটি চাপ প্রভাব ফেলছে-
১. জাহাজ বিলম্ব,
২. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,
৩. আতঙ্কে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।