রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বগুড়া শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার এনামুল হক বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি এ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১২ বগুড়ার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত রিপন মুরমু দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া গ্রামের মোসেশ মুরমুর ছেলে। জীবিকার তাগিদে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি বগুড়া সদরের চন্ডিহারা গ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
গত ৯ অক্টোবর একই এলাকার রেজাউল করিমের গ্রিল ও লোহার দরজা তৈরির দোকান থেকে একটি ঝালাই মেশিন চুরি হয়। এ ঘটনায় সন্দেহের জেরে ওই দিন সকালে রিপনকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। তার কাছে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় ইটভাটার শ্রমিকদের শোয়ার ঘর থেকে রিপনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক শ্রমিকের এমন মৃত্যু এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় রিপনের বাবা মোসেশ মুরমু বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৩৯ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ এবং এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে লতিফপুর কলোনির সাজেদা আর্জুর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এনামুল হককে গ্রেফতার করে এসআরবি-১২ বগুড়ার একটি দল।
এসআরবি-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একটি ঝালাই মেশিন চুরির সন্দেহ থেকে শুরু হওয়া বিরোধের পরিণতি হলো এক তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু। এখন মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসবে, এ ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং নির্যাতনের পেছনে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না।