মাগুরা জেলার মাগুরা সদর থানাধীন কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া গ্রামের আলমগীর (২৩), পিতা-ইলিয়াচ মোল্লা, থানা-মাগুরা সদর, জেলা-মাগুরা গত ০২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ সকাল ৯ টায় কান্না করতে করতে মাগুরা সদর থানায় হাজির হয়ে জানান- তিনি মাঠে কাজ করতে যাওয়ায় এবং তার স্ত্রী পুকুর ঘাটে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে একজন অপরিচিত মহিলা বোরকা পরিহিত অবস্থায় এসে তার বাড়ি হতে তাদের ৩ (তিন) মাস বয়সী শিশু পুত্র নূর ইসলামকে চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন মাগুরা সদর থানা, মাগুরা তাৎক্ষনিক বিষয়টি মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে অবহিত করেন।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন চুরি হওয়া শিশুটি উদ্ধারের জন্য মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইন ইনভেস্টিগেশন সেল'কে দায়িত্ব প্রদান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস), মাগুরা থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএম এর নেতৃত্বে সিসিআইসি, মাগুরা জেলার এসআই (নিঃ)/ অজয় দাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ মাগুরা বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় একজন বোরকা পরিহিত মহিলা উক্ত শিশু বাচ্চা নুর ইসলাম কে নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সাসপেক্টের অবস্থান দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট, রাজবাড়ী এলাকায় জানতে পেরে তাৎক্ষনিক মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ, ফরিদপুর নৌ পুলিশ অঞ্চলের কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হয় এবং মাগুরা জেলা পুলিশের সিসিআইসি ও মাগুরা সদর থানার যৌথ টিম ভিকটিম শিশু উদ্ধারের জন্য রওনা করে।
মাগুরা জেলা পুলিশ, মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় উক্ত চুরি হওয়া ৩ মাস বয়সী শিশু নূর ইসলামকে পাটুরিয়া ফেরীঘাট এলাকা হতে গত ০২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ রাতে উদ্ধার করা হয় এবং শিশুকে নিয়ে যাওয়া বোরকা পরিহিত মহিলাকেও হেফাজতে নেয়া হয়।
পরবর্তীতে উক্ত মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তার নাম কহিনূর বেগম এবং তিনি শিশু নূর ইসলাম এর মা। শিশুটির বাবা আলমগীর তার সাথে সব সময় খারাপ আচারন করে এবং তাদের মধ্যে ঝগাড়ঝাটি লেগে থাকে। তাই সে রাগ করে কাউকে কিছু না বলে তার ৩ মাস বয়সী বাচ্চাকে নিয়ে সে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছিলো।
উদ্ধারকৃত শিশুটি বর্তমানে তার মায়ের নিকট রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটির "চুরি" হওয়ার ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাগুরা জেলা পুলিশ সর্বদা জনগণের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নারী ও শিশু বিষয়ক বিষয়গুলো সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতার সাথে দেখা হয় এবং অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।