বিশেষ করে কুমিল্লা, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরগামী বাস কাউন্টারগুলোতে সকাল থেকেই উপচেপড়া ভিড় ছিল। তবে যাত্রীচাপ বাড়লেও দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। কোথাও কোথাও ধীরগতির যান চলাচল থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে চিটাগাংরোড, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে অনেকে ভোর থেকেই কাউন্টারে এসে অপেক্ষা করছেন।
বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়েও বাস না আসায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ রুটের পদ্মা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা রহমতুল্লাহ বলেন, “সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছেন অনেকে। দুপুরের পর কাউন্টারগুলোতে আরও বেশি ভিড় হবে বলে ধারণা করছি।”
চাঁদপুরগামী যাত্রী জাকির হোসেন জানান, তিনি সকাল থেকে পদ্মা পরিবহনের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনও গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন যাত্রী। নোয়াখালীগামী যাত্রী মো. আল-আমিন বলেন, সকালে বের হওয়ায় দ্রুত বাস পেয়েছি। তবে ভাড়া আগের চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। তারপরও মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই যাচ্ছে।
কুমিল্লাগামী যাত্রী সুমি আক্তার বলেন, প্রতি ঈদেই ভোগান্তি থাকে। এবারও চাপ বাড়ছে। সকালে এসে টিকিট পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে তুলনামূলক যাত্রীচাপ কম দেখা গেছে। চিটাগাংরোডের সোহাগ পরিবহনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট রুটের টিকিট বিক্রেতা হৃদয় রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চাপ কম রয়েছে। পর্যাপ্ত গাড়ি রয়েছে। কিছুক্ষণ আগে দুটি গাড়ি কয়েকটি সিট খালি নিয়েই ছেড়ে গেছে। তবে বিকেল ও আগামীকাল থেকে যাত্রীর চাপ অনেক বাড়তে পারে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ রুটের পদ্মা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা রহমতুল্লাহ বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছেন অনেকে। দুপুরের পর কাউন্টারগুলোতে আরও বেশি ভিড় হবে বলে ধারণা করছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা, স্টাফ ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন পরিচালনায় খরচও বাড়ে। তাই ভাড়া একটু বাড়তি।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়জুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া ও মেঘনাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ জানান, কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে সাতটি স্থায়ী চেকপোস্ট ও পাঁচটি মোবাইল টিম কাজ করছে। এসব টিমে শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যেকোনো ধরনের যানজট, দুর্ঘটনা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দেহজনক যানবাহন তল্লাশি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, “ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শিমরাইল, চিটাগাংরোড, কাঁচপুর ও তারাবো এলাকায় ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।