এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬), মজিবর রহমান (৪৮) ও ১৬ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার ২ নং আসামী সাকিব(২০) ও অজ্ঞাত অপর আসামী পালাতক রয়েছে। সাকিব গ্রেপ্তারকৃত ১৬ বছর বয়সী তরুণের আপন ভাই বলে মামলা সূ্ত্রে জানা গেছে।
মামলায় গৃহবধূর মা উল্লেখ করেছেন, মামলার আসামীরা সবাই তার মেয়ের প্রতিবেশী। রানা বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।
বৃহস্পতিবার রাতে তার মেয়ের জামাই মেয়েকে একা বাসায় রেখে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মেলায় যায়। ভোররাত ৩ টার দিকে হাসান, মজিবরসহ অজ্ঞাত একজনকে বাহিরে পাহারায় রেখে রানা ও সাকিব তার মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে মেয়ে চিৎকার করলে বাহিরে অবস্থানরত ৩ জন মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে এবং পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করে। ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ভিডিও করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি কাউকে বললে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। শুক্রবার ভোড় ৬টার দিকে মেয়ের জামাই বাসায় ফিরলে মেয়ে বিষয়টি খুলে বলে। শনিবার সকালে তিনি ( মেয়ের মা) ও তার স্বামী (মেয়ের বাবা) পুনরায় বিষয়টি মেয়ের নিকট থেকে জানতে পারে। পরে সন্ধ্য ৬ টার দিকে রানা বাসায় ফিরলে এলাকার লোকজন নিয়ে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় সাইফুল ইসলাম রানা, মজিবর ও মেহেদী নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পেশায় রাজমিস্ত্রী রানাকে এলাকাবাসি গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। বাকি দুই আসামীকে রাতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মজিবর পেশায় কেয়ারটেকার। সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি দুই আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগি গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলেন নূর মোহাম্মদ।
এদিকে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মডেল থানায় ভূক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর ও পরিবারের সদস্যদের কথা বললে, পরিবারের সদস্যরা জানায় তারা অভিযোগ করেছিলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়াবাড়ীতে ওই গৃহবধূ চাটাইয়ে ঘেড়া টিউবওয়েলে গোসল করতে ছিলেন। এসময় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রানাসহ প্রতিবেশী আরও দুইজন ওই গৃহবধূকে হাতপা বেঁধে ধর্ষণ করে এবং অপর দুইজন ভিডিও করে। পরে ভিডি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পূনরায় বুধবার রানাসহ তিনজন গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এরপর বৃহস্পতিবার ওই তিনজনসহ আরও দুই জন মোট পাঁচ ব্যাক্তি গৃহবধূকে ধর্ষন করে।
শনিবার ছয়টার দিকে গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চায়। পরে গৃহবধূ বিষয়টি বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে রাত আটটার দিকে পেশায় রাজমিস্ত্রী রানা বাসায় ফিরলে রাত আটটার দিকে তাকে আটক করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা জানলে রানাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগির পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন গৃহবধূকে ব্লাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টানা ৩ দিন ধর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু মামলায় ১ দিন উল্লেখ করা হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার বিবরন ভুক্তভোগি গৃহবধূ ও তার মা যেভাবে বর্ননা করেছে মামলাটি সেভাবেই রেকর্ড হয়েছে। আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলেছেন।