চলতি বছরের ১৩ মার্চ চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ট্রেনগুলো হলো—পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস।
সেবা চালুর ছয় মাস না পেরোতেই এসব যন্ত্রপাতির বড় অংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপবন এক্সপ্রেস থেকে অ্যানটেনা উধাও
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) নিয়মিতভাবে ট্রেনগুলোতে স্থাপন করা স্টারলিংকের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে। সম্প্রতি তদারকির সময় উপবন এক্সপ্রেসের একটি অ্যানটেনা থেকে সিগন্যাল না পাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে।
পরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনের ছাদে অ্যানটেনাটি নেই। সেখানে শুধু সেটি স্থাপনের হোল্ডারটি পড়ে আছে। অর্থাৎ অ্যানটেনাটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বিএসসিএল কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি রাউটারের দাম প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর একটি স্টারলিংক অ্যানটেনার দাম দুই লাখ টাকার বেশি। ফলে এসব যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
চলন্ত ট্রেনে চুরি নিয়মিত সমস্যা
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমাদুর রহমান বলেন, যন্ত্রপাতি চুরি ঠেকানো না গেলে ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, কারা এসব রাউটার ও অ্যানটেনা চুরি করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান বলেন, চলন্ত ট্রেনে চুরি একটি নিয়মিত সমস্যা।
এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, অনেক সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এসব যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্য না বুঝে ধাতব অংশ মনে করে চুরি করে কম দামে বিক্রি করে দেয়।
নতুন বগিতে বদলাচ্ছে স্থাপনের কৌশল
বারবার যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় এবার স্থাপনের কৌশল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, গত কয়েক মাসে চুরি হওয়া রাউটারগুলো প্রতিস্থাপন করা হলেও চুরি বন্ধ হয়নি।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৫০টি বগিতে রাউটারগুলো বগির ভেতরের কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করা হবে। ফলে বাইরে থেকে সহজে সেগুলো খুলে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, অ্যানটেনা সাধারণ বগির ছাদে না বসিয়ে ইঞ্জিন বগির ছাদে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, স্থাপনের ধরন পরিবর্তন করলে চুরি কমবে এবং ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা আরও নিরবচ্ছিন্নভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।