প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি সূত্রে প্রকাশ—মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুন্না ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে।
জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘মুন্না ভাইয়ের’ নামে মামলা নেই
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
গোপন চেইনে চলে সরবরাহ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুন্না ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।