অভিযুক্ত যুবকের নাম ইবারুল ইসলাম চৌধুরী (জিসান)। তিনি পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া চৌধুরী বাড়ির ইকরামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। গত কয়েক দিন ধরে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, কলেজের এইচএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইবারুল। নিজেকে কখনো ‘জুলাই যোদ্ধা’ আবার কখনো ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে পরশুরাম বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় বসে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি ও ছবির পাশাপাশি জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে নেন। মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ না হওয়ায় ওই ছয় শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন ইবারুল। তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে অধ্যক্ষ তাদের পরীক্ষা দিতে দেবেন না। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নিজের প্রভাবের কথা জানিয়ে তিনি টাকাগুলো আদায় করেন।
প্রতারণার শিকার পূর্ব অলকা এলাকার এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে ভেবে আমরা এতদিন কিছু বলিনি। কিন্তু পরে দেখি তিনি প্রতারণা করে আরও টাকা দাবি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ইবারুলের বিরুদ্ধে বালু ও মাটি লুটসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
ইবারুল ইসলামের বাবা ইকরামুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এসে বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, ছেলে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গেছে। আমার কাছে এখন টাকা নেই, জমি বিক্রি করে ভুক্তভোগীদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
অভিযুক্ত ইবারুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) দিদারুল আলম বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজুলেশনের মাধ্যমে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিন বা চার বিষয়ে অকৃতকার্যদের বিষয়ে সুপারিশ এলেও কলেজের ফলাফলের মান রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়। অবৈধভাবে লেনদেন করা শিক্ষার্থী ও গ্রহীতা-উভয়েই অপরাধী।
পরশুরাম মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।