বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স ‘ফ্লাই৯১’-এ গত আগস্টে সাধারণ কমার্শিয়াল পাইলট হিসেবে যোগ দেন অভিনন্দন। দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ার পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি স্বেচ্ছায় আগাম অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে নতুন পেশায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে অভিনন্দন নিজে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
২০২৪ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা ‘ফ্লাই৯১’ বর্তমানে এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের ছয়টি উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
২০১৯ সালে অভিনন্দন বর্তমানের নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় ভারতের অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন।
এর জবাবে ১২ দিন পর পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। এর পরদিনই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশযুদ্ধ শুরু হয়।
সেই সংঘর্ষের সময় অভিনন্দন একটি মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করেন। পরে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হামলায় তার মিগ-২১ ভূপাতিত হয়। বিমানটি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এলাকায় বিধ্বস্ত হলে পাকিস্তানি সেনারা অভিনন্দনকে আটক করে।
ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে তিন দিন পর অভিনন্দনকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেয় পাকিস্তান।
যুদ্ধকালীন সাহসিকতা ও সামরিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালেই অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরচক্র’ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে এবার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন আলোচিত এই পাইলট। সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে তিনি এখন বেসরকারি এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে দায়িত্ব পালন করবেন।