সকালের ঝিরিঝিরি বৃষ্টি উপেক্ষা করে নানা বয়সী মুসল্লিরা ঈদগাহ ও মসজিদে ছুটে আসেন। অনেককে ছাতা মাথায়, কেউবা বৃষ্টিতে ভিজেই ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ঈদগাহগুলোতে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। জামাতে ইমামতি করা হয় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবং এর আগে বয়ান পেশ করেন মুফতি মাওলানা জুনেদ আহমদ আনসারী। তিনি বয়ানে ঈদুল আজহার তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সিলেটে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া, উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
ঈদের নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। একইসঙ্গে দেশের সুখ, শান্তি ও মানুষের কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
এদিকে নগরীর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরগাহ মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা হুজাইফা হোসাইন চৌধুরী। জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিরা মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।
সিলেট সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা প্যান্ডেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে পরিবার নিয়ে অনেকেই সেখানে নামাজ আদায় করেন।