কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কিসামত মালভাঙ্গা মৌজার ধরলা নদী তীরবর্তী চড়াইপট্টি গ্রাম। এখানেই নদীতীর রক্ষা বাঁধের স্লোপে একাকী বসবাস করছেন আশির্ধ আজিজুর রহমান। সরকারি খাস জমিতে এক টুকরো টিনের চালায় মানবেতরভাবে কাটছে তার দিনরাত।
যে বয়সে পরিবারের সাহচর্য ও সহমর্মিতা দরকার ছিল, সেই বয়সেই তিনি অপাংতেয় হয়ে একাকী জীবন যাপন করছেন। বৃদ্ধ আজিজুর রহমানের নির্মম কষ্ট আর যন্ত্রনা দেখার যেন মানুষ নেই। যে সন্তানকে বুকে আগলে রেখে মানুষ করেছেন, সেই সন্তান এখন তাকে বোঝা মনে করে দূরে ঠেলে দিয়েছে। শুধু সন্তানদের কাছ থেকে নয় প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
আজিজুর রহমানের সাথে কথা বলে যেটুকু জানা গেল, তার পিতার নাম মৃত: সরিয়ত উল্যাহ। ধরলা নদীর অপরপাড়ে বাড়ি ছিল তার। নদী ভাঙনের পর এপারে ওয়াপদা বাঁধের স্লোপে এসে পরিবারসহ আশ্রয় নেন। স্ত্রী নদীতে ডুবে মারা গেছে। তার তিন সন্তানের মধ্যে বর্তমানে দুই ছেলে ঢাকায় অবস্থান করছে। একমাত্র কন্যা সন্তান তার বাড়ীর পাশেই স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছে। তারাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
এরআগে মেয়ের কাছেই ছিলেন বৃদ্ধ আজিজুর রহমান। সেখানে মেয়ে জামাইয়ের আপত্তির কারণে এখন তিনি গৃহহীন! পরিবারহীন! কোন সন্তান এখন তার খোঁজ নেয় না। প্রতিবেশীদের দয়ার উপর চলছে তার খাওয়া দাওয়া। অনেকদিন পর আজ এক প্রতিবেশীর দয়ায় তিনি ব্রয়লারের মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ঘরে কোন পানি নেই এজন্য আমাদের কাছে পানির সাহায্য চাইছিলেন। আমরা প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে পানি এনে দেই।
প্রতিবেশী রাহেলা বেওয়া জানান, বুড়ার এ্যালা কাইয়ো নাই। মানুষ দয়া করি যা দেয়, তাক খায়ায় জীবন চলে তার।
অপর প্রতিবেশী সাইদুর রহমান জানান, আগে সুস্থ্য ছিল। পরে প্যারালাইসিস হয়। তখন থেকে ছেলেমেয়েরা দেখে না। অবহেলিত এইভাবে পরে আছে। ভিক্ষা করে কায়। এখন তো ভিক্ষা করেও খাইতে পারতেছে না। উনি নিজেই অসুস্থ্য। ছেলেমেয়েরা কেউ খবর নিচ্ছে না এবং স্থানীয় লোকেরাও যার যার সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত। কার জন্য কে কাঁদে! এই হল ব্যাপার।
প্রতিবেশী বদিয়ত জানান, একটা মেয়ে এবং দুইটা ছেলে আছে। তারা কেউ খোঁজখবর রাখে না। আগে বিভিন্ন জায়গায় রাত কাটাতো। এখন বাঁধের রাস্তার পাশে পরিবার ও স্থানীয়রাসহ সহযোগিতা করে ঘর তুলে দিয়েছে সেখানে থাকে। সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই টাকা কার কাছে যাচ্ছে, তাও জানেন না তিনি।
মোগলবাসা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, উনি হতদরিদ্র এবং বয়স্ক মানুষ। দীর্ঘদিন বাসায় ছিলেন। হয়তো কোন কারণে তার মেয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন তিনি ওয়াপদা বাঁধের খাস জমিতে আছেন। আজিজুর রহমানের মত দেশের আনাচে কানাচে অনেক বয়স্ক মানুষকে তাদের সন্তানেরা দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের প্রতি কেন যে অনিহা! তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ তার পরিবারের কেউ হয়তো নিচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি এটাকে সমাধানে নিয়ে আসার জন্য।#