ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ভারতে অবস্থানরত পুতিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির চলাচল এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
বৈঠকে বসার আগে দুই নেতা উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। চলতি বছরে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৬তম সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন মোদি ও পুতিন। এসব সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সময় মোদি আবারও বলেন, এ ধরনের সংঘাত সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।
এর আগে পুতিনকে ভারতের মহান তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুবল্লুভরের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষায় অনূদিত একটি সংস্করণ উপহার দেন মোদি। বইটিতে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পুতিনের গাড়িতে একসঙ্গে যাত্রা করেন মোদি ও পুতিন। দুই নেতার একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রার ঘটনা এটি তৃতীয়বার।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন পুতিন। তবে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে এবারই প্রথম সরাসরি অংশ নিচ্ছেন তিনি। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
পুতিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও রয়েছে। নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার মধ্যেই তার এবারের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বিশকেকের সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে পুতিনকে অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদি।
শুক্রবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পুতিনের সফরের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি জানিয়েছিলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদিকে অবহিত করবেন পুতিন।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়েও দুই নেতার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। এ বছর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করছে দেশটি। এতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে নেতারা মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়েও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন তারা।
সূত্র : এনডিটিভি