এর আগে বুধবার রাতে ফেরিটিতে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছিল। আগুন নেভানোর পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো ফেরিটির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সুরক্ষা পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ছোট নৌকা থেকে কালো ব্যাগে মরদেহ কোস্ট গার্ডের জাহাজে তুলেছেন। ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। আগুনের পর ঘন ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে এতক্ষণ ভেতরে ঢুকতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ৮৪ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন করে ৩০টি মরদেহ উদ্ধারের পর বর্তমানে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
দেশটির কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ছবিতে ফেরিটির ভেতরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের থাকার বার্থগুলো পুড়ে বাঁকাচোরা ধাতব কাঠামো ও ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কঙ্কালের মতো অবশেষ এবং পুড়ে যাওয়া একটি যানবাহনও দেখা গেছে।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোক ও কষ্ট তারা উপলব্ধি করছেন। মৃতদের ও তাদের স্বজনদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া রিচার্ড মার্সেলিয়ানো জানান, প্রথমে অল্প ধোঁয়া দেখা গেলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা ভয়াবহ আগুনে পরিণত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি ও অন্য যাত্রীরা প্রায় দুই ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন।
৭ হাজার ৬০০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে দ্বীপ ও প্রদেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতে লাখো মানুষ ফেরি ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে জানুয়ারিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় সুলু প্রদেশের দিকে যাওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী নৌযান ডুবে ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।