পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাইলে সরকারকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে। আর সরবরাহ কমানো হলে আসন্ন গ্রীষ্মে তীব্র লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তৈরি হলে উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
হামলার পর কাতার জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে এবং পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে সম্পূর্ণ ক্ষতি কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে এই রাস লাফান হাব থেকে, ফলে এর প্রভাব পড়ছে চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিতেও।
কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং একটি গ্যাস-টু-লিকুইড (জিটিএল) ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে বড় ধরনের আগুন লেগে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম। ইসরায়েল জানিয়েছে, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে, আর ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ চেয়েছে। এর মধ্যে আইএমএফ থেকে ১.৩ বিলিয়ন এবং এডিবি থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক আয়কে প্রভাবিত করতে পারে।