রোববার (৭ জুন) রাতে নিহত জোবায়েরের মরদেহ বন্দরে পৌঁছালে মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এর আগে ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বর্তমানে বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
নিহত জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও সে সময় মামলা নেয়া হয়নি। জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু জানান, মামলার জন্য থানায় গেলে জোবায়েরের পিতা জাহাঙ্গীরের বন্ধুর কাছ থেকে পুলিশ টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেয়ায় মামলাটি সেসময় নেয়নি পুলিশ।
এর আগে গত ৩ জুন (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। জোবায়ের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এলাকার কিছু লোকজন এসেছিলো। তবে আমি তাদের কথা দিয়েছি, এটার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তাই আমার কথার উপর আস্থা রেখে তারা থানা থেকে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এঘটনায় মামলা করতে এসেছিল এমন তথ্য আমার কাছে নেই। এঘটনায় জড়িত একজনকে আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। মামলা না হওয়ায় সেই আসামীকে অন্য আরেকটি মামলায় কোর্টে চালান করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্য মামলাও ছিল থানায়। এঘটনায় নিহতের পরিবার এখনও মামলা করেনি। হয়তো তারা শীঘ্রই মামলা দায়ের করবে। তখন আমরা তাকে সেই মামলায়ও গ্রেফতার দেখাবো।