ভুক্তভোগী শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। অভিযুক্ত লাবনী আক্তার জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। অভিযোগ রয়েছে, লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এতিম শিশু মরিয়মকে (১০) নিজের বাসায় নিয়ে গেলেও পরে তাকে দিয়ে ঘরের বিভিন্ন কাজ করানো হয় এবং সামান্য ভুলত্রুটিতেই শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্মের ছয় বছর পর মরিয়মের মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে সে নানা-নানির কাছে আশ্রয় নেয়। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর লাবনী তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুরুতে কিছুদিন স্কুলে পাঠানো হলেও পরে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মরিয়মকে দিয়ে ঘর পরিষ্কার, রান্না, কাপড় ধোয়া ও সংসারের প্রায় সব কাজ করানো হতো। কাজে সামান্য ভুল হলেই তাকে লাঠি, রড ও গরম খুন্তি দিয়ে মারধর করা হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে মরিয়মকে আবারও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে পেটে লাথি মারলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরে সুযোগ বুঝে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে তার নানি রশিদা খাতুন এসে তাকে উদ্ধার করেন।
মরিয়ম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “আমাকে পড়াশোনা করানোর কথা বলে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সব কাজ আমাকে দিয়ে করানো হতো। কোনো কাজ ভুল হলেই মারধর করা হতো। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া হয়েছে। আমি কাঁদলে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো যাতে কেউ শুনতে না পায়। গত দুই বছর ধরে এভাবেই নির্যাতন করা হয়েছে।”
শিশুটির নানি রশিদা খাতুন বলেন, “এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনিকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শিক্ষক লাবনী আক্তার বলেন, “মরিয়মকে আমি ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। সে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় সন্তানের মতো শাসন করেছি। তাকে কখনো কাজের মানুষ হিসেবে রাখা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়, এটি ষড়যন্ত্র।”
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।