নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখানে একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে গুনতে হতে পারে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
সংরক্ষণ ফি (২৫ বছর): সাধারণ এলাকায় ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সংরক্ষিত এলাকায় এই ফি ১.৫ কোটি টাকা।
সংরক্ষণ ফি (১৫ বছর): ১৫ বছর মেয়াদে কবর সংরক্ষণের জন্য ফি দিতে হয় ৩ কোটি টাকা। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি ১ কোটি টাকাও হতে পারে।
সাধারণ দাফন: যারা জায়গা সংরক্ষণ করতে চান না, তাদের জন্য মাত্র ৫০০ টাকা ফি দিয়ে দাফনের সুযোগ রয়েছে। তবে বাঁশ-চাটাইসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার টাকা।
পুনঃদাফন ফি: পূর্বে সংরক্ষিত কোনো কবরে পরিবারের নতুন সদস্যকে দাফন করতে হলে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ফি প্রদান করতে হয়।
কারা পুনঃদাফনের সুযোগ পাবেন: যার নামে কবরটি প্রথম বরাদ্দ করা হয়েছে, কেবল তার স্ত্রী, মা-বাবা, ভাইবোন এবং সন্তানরাই ওই কবরে পুনরায় দাফনের অনুমতি পাবেন।
কেন এই আকাশছোঁয়া মূল্য?
বনানী কবরস্থানে জায়গার ভয়াবহ সংকট চলছে। ২০০৬ সালেই সংরক্ষিত এলাকার স্থান ফুরিয়ে গেছে। বর্তমানে কবরস্থানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গা সংরক্ষিত থাকায় সাধারণ মানুষের দাফনের সুযোগ কমে এসেছে।
ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানান, সাধারণ এলাকাকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতেই এই চড়া মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যেন মানুষ কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত হয়।
বাস্তব চিত্র ও সংকটের গভীরতা
জায়গার অভাব: নতুন করে জায়গা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই এই কবরস্থানে।
দ্রুত পুনঃব্যবহার: একটি কবরের ১৮ মাস থেকে ২ বছর পার হলেই সেখানে নতুন করে অন্য মৃতদেহ দাফন করা হয়।
হাড়গোড় ব্যবস্থাপনা: দুই বছরের মধ্যে কবর খুঁড়তে গিয়ে পূর্বের লাশের হাড় পাওয়া গেলে তা ওই কবরের ভেতরেই গর্ত করে রাখা হয়।
বিকল্প ব্যবস্থা: অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক পরিবার এখন ঢাকায় কবর না দিয়ে নিজ গ্রামে দাফন করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ কবরস্থানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০টির মতো কবর খোঁড়া হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর হারের বিপরীতে জায়গার সংস্থান না হওয়ায় ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।