যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সোলায়মান এই মূল্যবৃদ্ধির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্যমতে: জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে ১.৪ হওয়ার প্রেক্ষিতে হেড অফিসের নির্দেশে এই ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে।
হেড অফিসের নির্দেশনা: এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ঢাকা হেড অফিস থেকে এসেছে। তবে স্থানীয় বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং গ্রাহকদের ফিডব্যাক তারা হেড অফিসকে জানাবেন, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা (রিভিশন) হতে পারে।
বিমানের এই নতুন ট্যাক্স কাঠামোতে রুটভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে, যা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
- লন্ডন রুট: ২০৭ পাউন্ড (অতিরিক্ত)।
কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্য: মাত্র ৬৫ পাউন্ড।
সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে কানাডা বা জেদ্দা-দুবাইয়ের মতো দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্যাক্স মাত্র ৬৫ পাউন্ড, সেখানে লন্ডনের যাত্রীদের কেন তিনগুণের বেশি অর্থ গুনতে হবে।
বিমান অ্যাপ্রুভড ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (ইউকে বাটা)-এর কার্যকরী পরিষদের সদস্য নুসফুর রহমান সায়েদ এই সিদ্ধান্তকে "অ্যাবসলিউটলি ইনজাস্টিস" বা চরম অবিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান:
"এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টেকহোল্ডার বা এজেন্টদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। লন্ডন রুটে বিমানের ভাড়া এমনিতেই অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় বেশি, তার ওপর একসাথে ২০৭ পাউন্ডের এই বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক নামী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এখনো এই ধরনের বড় অংকের ফুয়েল ট্যাক্স যুক্ত করেনি।
লন্ডন-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধার কারণে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বিমানে যাতায়াত করেন। তবে লাগামহীন ভাড়া, সেবার মান এবং এখন নতুন করে এই বড় অংকের ট্যাক্স যুক্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রী এখন বিকল্প এয়ারলাইন্স খোঁজার কথা ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সকে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।