আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মোছা. শারমিন আক্তার সুমী অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার একাকীত্বের সুযোগ নেন চতরা ইউনিয়নের অনন্তপুর (নাদনপাড়া) এলাকার ব্যবসায়ী ও চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া। জিয়া তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখালে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত জিয়া ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ প্রায় ২২ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ৪ ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গাইবান্ধা জজ কোর্টে এফিডেভিট করানো হলেও পরবর্তীতে কোনো বৈধ বিয়ে নিবন্ধন কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিয়া চতরাহাটে অবস্থিত তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান 'সুমাইয়া বস্ত্র বিতান'-এ স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার হাফেজ শরিফুল ইসলামকে দিয়ে কনেপক্ষের অনুপস্থিতিতে, ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে গভীর রাতে বিয়ে পড়ান। এরপর ব্যবসা শেষে দোকান বন্ধ করে তিনি অধিকাংশ রাত আমার বাড়িতেই যাপন করতেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানালে অভিযুক্ত জিয়া তার সঙ্গে সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সুমী অনন্তপুর নাদনপাড়ায় জিয়াউর রহমানের বসতবাড়িতে গেলে তার পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জিয়া ও তার লোকজন সুমীকে জোরপূর্বক চতরাহাটের ওই কাপড়ের দোকানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে বেশ কিছু সাদা কাগজ ও সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং এরপর তাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তার চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় এবং সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করায় গ্লানি সহ্য করতে না পেরে গত ১৪ জুন তিনি বিষপান করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানহানি ও নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।