সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে গঙ্গামতি চর পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ভাঙন দৃশ্যমান। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স এলাকা থেকে লেম্বুর বন পর্যন্তও সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা সাগরের পানিতে সরে গিয়ে তীর রক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ভাঙনের তীব্রতায় সৈকতসংলগ্ন অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জোয়ারের পানিতে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে যেতে পারে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ‘এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে খুব শিগগিরই আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জোয়ারের পানিতে চলে যাবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা কী করব?’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সময়ে ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হলেও সেগুলো স্থায়ী সমাধান দিচ্ছে না। সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে অনেক জায়গায় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে তীর ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকরাও সৈকতের এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন গন্তব্য। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগ থাকায় প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। অথচ ভাঙন অব্যাহত থাকলে কুয়াকাটার পর্যটন সৌন্দর্য ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পর্যটকদের কয়েকজন বলেন, ‘কুয়াকাটার সৌন্দর্য দেখতে এসে ভাঙনের এমন দৃশ্য দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। সৈকত রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার অর্থনীতি অনেকাংশেই পর্যটননির্ভর। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফি, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে হাজারো মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সৈকত ভাঙনের কারণে পর্যটন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতেও।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বালুর বস্তা বা জিওব্যাগ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে কুয়াকাটার উপকূলীয় ভূপ্রকৃতি, জোয়ার-ভাটা, ঢেউয়ের গতিপথ ও সমুদ্রস্রোত বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি ও লেম্বুর বন পর্যন্ত ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের একটাই দাবি-কুয়াকাটার অস্তিত্ব রক্ষায় আর দেরি নয়, এখনই কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।