সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার আমড়ুল ইউনিয়নের ফুলকোট মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বার্মিজ চাকু ও নিবন্ধনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফুলকোট মধ্যপাড়া এলাকার এরশাদুল রহমানের ছেলে এরিন আহমেদ সুইট (১৯) এবং বিলকেশপাথার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. মিরাজুল (১৯)।
ডিবি পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে সুইটকে বিশেষ ভঙ্গিতে বার্মিজ চাকু প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তাঁর সহযোগী মিরাজুল ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন বলে পুলিশের দাবি। ভিডিওটির একপর্যায়ে ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা একটি পিস্তলের ছবিও যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নিজেকে প্রভাবশালী ও ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে এলে বগুড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযানে নামে ডিবি। পরে অভিযান চালিয়ে সুইট ও মিরাজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সুইটের কাছ থেকে বার্মিজ চাকুটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ১৫০ সিসির একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির পরিদর্শক ইকবাল বাহার বলেন, সুইট এলাকার কিছু উঠতি বয়সী তরুণকে নিয়ে ‘সুইট গ্রুপ’ নামে একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুইট জানিয়েছেন, এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও নিজের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইউটিউব থেকে পিস্তলের ছবি সংগ্রহ করে চাকুর ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তবে তাঁর কাছে বাস্তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। কথিত গ্রুপটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।