রোববার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামসকে।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদীর দাবি, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
একাধিক ধারায় অভিযোগ
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাবের সঙ্গে অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাটি রেকর্ড করে আইনানুগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাছেদ বলেন, “মামলার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এ মামলাকে অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম এখন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে।