পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই দম্পতি। গত বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগীর রাজমিস্ত্রি স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে দুই শিশুসন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে তিনি সোনারগাঁ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)। অপর এক আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১৩জুন) ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। তবে পরীক্ষার পরও তিনি বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, এলাকার লোকজন আগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছিল। এখন মামলা করেছি, আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়েছে। এলাকায় গেলে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় কি না, সেই ভয় আছে। কোথায় যাব বুঝতে না পেরে হাসপাতালেই অবস্থান করছি। তাদের স্বজনদের অনেকেই এখনো ঘটনাটি জানেন না। ফলে শ্বশুরবাড়ি বা বাবার বাড়িতেও আপাতত যেতে পারছেন না তারা।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, মামলার পরপরই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে নিজ এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।