টানা দুই সাফের শিরোপা রয়েছে বাংলাদেশের। ২০২২ ও ২০২৪ কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ওই দুই আসরে সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে ট্রফি জিতেছিল লাল সবুজের মেয়েরা। প্রথমটিতে কোচ হিসাবে ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন এবং দ্বিতীয় শিরোপা ছিল কোচ পিটার বাটলারের অধিনে। ওই দুই আসরেই সাবিনার সঙ্গে সহকারী অধিনায়ক হিসাবে ছিলেন মারিয়া মান্ডা। এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশনে অধিনায়ক করা হয়েছে সেই মারিয়া মান্ডাকেই।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ সরাসরি বলেন, ‘ মাদের দলে কিছু নতুন ও তরুণ খেলোয়াড় এসেছে। আপনারা জানেন, আমি মারিয়াকে দলে নিয়ে এসেছি এবং তাকে অধিনায়ক করেছি। সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দলকে নেতৃত্ব দেবে। এবং আমার সত্যিই মনে হয় যে, এটি খেলোয়াড়দের জন্য ভাল। নিজেদের প্রমাণ করার একটি দারুণ সুযোগ, তবে তার চেয়েও বড় কথা, আপনারা জানেন, ইতিহাস তৈরি করার সুযোগ।’
মারিয়া মান্ডার ২০১১ সালে ফুটবলে হাতেখড়ি। ২০১৩ সালে ধোবাউড়ার বিখ্যাত কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়। মারিয়া সেই দলের একজন সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। ওই টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে ডাক পান মারিয়া। তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে তার সহ-অধিনায়কত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলের সহ-অধিনায়কও মারিয়া।
এরপর জায়গা করে নেন মূল জাতীয় দলে। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সাফ বাংলাদেশের রানার্সআপ হওয়ার পেছনে ছোট মারিয়ার অবদান কম নয়। যার ফলে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে তার বাহুতেই বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের আর্মব্যান্ড। এরপরের গল্পটা তো পুরো বাংলাদেশ দেখল। মারিয়ার হাত ধরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সাম্রাজ্য গেড়ে বসা ভারতকে একই টুর্নামেন্টে হারায় দুই-দু'বার। এরপর জাতীয় নারী ফুটবল দলে বিগত দুটি সাফ শিরোপা জেতার পেছনেও অনেক অবদান রয়েছে মারিয়ার। এবার সেই অবদানের পুরস্কারই যেন অভিজ্ঞ মারিয়া মান্ডাকে দিলেন কোচ পিটার কোচের আর্মব্যান্ড পরিয়ে।