আজ শনিবার (১২ সেপ্টম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে লালমোহনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ১৭ বছরের কৃতকর্মের কারণে কুখ্যাত নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং প্রধান বিচারপতিও পালিয়ে গিয়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমামও পালিয়ে গিয়েছে। যে যেই পদে ছিল এই ১৭ বছর, সব পালিয়েছে। ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে ৬০০পুলিশ অফিসার।
পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির সম্পর্কে স্পিকার বলেন, পুলিশ বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করার জন্যে, নিজেরা দুই পয়সা বানাবার জন্যে, সারা বাংলাদেশের মানুষের উপর কি অত্যাচার নিপীড়ন করেছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে পিয়ন চাপরাশি পর্যন্ত পালাইছে। পুলিশের এক আইজিপি বেনজীর আহমেদের কাহিনী কিছুদিন আগে আপনারা দেখছেন। ও কত বড় চোর?
বাংলাদেশের জায়গা জমির একটা বিরাট অংশ সে নিজের স্ত্রী, পুত্র, কন্যার নামে লিখে নিয়েছে। বনাঞ্চল নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। তার কত যে বাড়ি ঘর, তা সীমাহীন। তার মেয়ে গুলশান থেকে গাড়ীতে ৪৫মিনিটের পথ দূরুত্বে কলেজে পড়তেন। সেখানে গাড়িতে গেলে হয়রান হয়ে যেতে পারেন এই জন্য সাত তলা একটি বাড়ি বানিয়েছেন। এতো টাকা দিয়ে কি করবেন তাই দিশেহারা হয়ে গেছেন।
শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। অথচ তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকত গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন- তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন, গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন।
তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। জনগণ তখন বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এখন জনগণের কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেই ছিলেন গুমের নির্দেশদাতা।
মাদকের ব্যাপক ছড়াছড়ি উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আগে তো এতো মাদক ছিল না। গত ১৭বছর এই আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ফলে প্রথম মাদক আসছে। এর আগে ২০০৬সাল পর্যন্ত আমি যখন একনাগাড়ে ৬ বার এমপি হলাম, তখন এই মাদক ছিল না। এই রকম দখলবাজি ও চাঁদাবাজিও ছিল না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদল সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদার প্রমূখ।