গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। তবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন।
নির্বাচনের আগে টানা আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুই নেতাই একে অপরকে আক্রমণ করে নানা বক্তব্য দেন। সবশেষ তমিজ উদ্দিন মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা করলেও তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির কোনো প্রচারণায়ও অংশ নেননি মুরাদ। সবমিলিয়ে উপজেলার দুই নেতার দ্বৈরথ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।
নির্বাচনে তমিজ উদ্দিন নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেন। আর গেল মার্চে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদকে নির্বাচন ছাড়াই জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয় সরকার।
নির্বাচন পরবর্তী সময়েও একাধিকবার বিরোধের খবর এলেও বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ দুই নেতাকে এক সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিও পালন করেন আলাদা আলাদা। শনিবার নিজের অনুসারীদের নিয়ে র্যালি ও আলোচনা সভা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ।
সভায় বক্তব্যে ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ও ঢাকা জেলা প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, আমাদের এখানে মাননীয় সংসদ সদস্য আছেন, আলহাজ্ব তমিজউদ্দিন সাহেব। তো, উনার সঙ্গে আমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। কারণ উনি আমার চাচা, আমি তার ভাতিজা।
তিনি বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতি করব না। আমরা একটা দলের আদর্শকে ধারণ করি। উনি এমপি হয়েছেন, আমরা উনাকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহায়তা করব, ঠিক আছে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু উনার কোনো নেতাকর্মী যদি কোনো অন্যায়, কোনো কিছু করেন, সেটা আমি তার সঙ্গে কথা বলব। আমাদের দলের নেতাকর্মী, আমার সঙ্গে যারা রাজনীতি করে, তারা যদি কোনো অন্যায় কোনো কিছু করে, উনি আমাকে অবশ্যই বলবেন। কারণ উনার সেই অধিকার আছে। আমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপিকে আমরা এখানে শক্তিশালী একটা ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবো। এবং আমরা ধামরায়ের প্রত্যেকটা উন্নয়নের সঙ্গে এক এবং অভিন্ন থাকব। যে কাজ করলে পরে ওই পতিত স্বৈরাচার সরকার, যারা আজকে এই দেশেও থাকতে পারে না, তাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। এটাই হচ্ছে আজকের দিনের প্রতিজ্ঞা।
কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
ধামরাই উপজেলা চত্বরে আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে বিএনপির ধামরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা কেউই উপস্থিত ছিলেন না।