ঈদুল ফিতরের আগে থেকে খোলা তেলের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। ঈদের পর কয়েকদিনে তা বেড়ে ২০৫–২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেল এখনও লিটারে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল ও খিলগাঁও এলাকার দোকানগুলোতে এক লিটার বা আধা লিটারের বোতলজাত তেল দু’একটি দোকান ছাড়া পাওয়া যায়নি। কিছু সংখক দোকানে সীমিত পরিমাণ ২ ও ৫ লিটার বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে। খোলা পাম তেলের কেজি ১৮৫-১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের সংকটের পেছনে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণগুলিকে দায়ী করছেন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যাহত হওয়ায় মিলগেটে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে।
মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ বলেন, “বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা তেলও ঈদের আগে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রেতারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।”
মুগদার সুপারশপ ‘স্বপ্ন’-এ দেখা গেছে, ফ্রেশ ও তীর ব্র্যান্ডের কিছু বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে। এক ক্রেতাকে সর্বোচ্চ দুটি বোতল বিক্রি করা হচ্ছে।
টিসিবি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় খোলা সয়াবিনের দাম ১৮ শতাংশ এবং খোলা পাম তেলের দাম ১১ শতাংশ বেশি।
ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা দাম বাড়াতে চেয়েও সরকার অনুমতি দেয়নি। তবে ডিলার পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি হয়েছে, ফলে খুচরা বাজারে গ্রাহকরা বাড়তি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
দেড় মাস ধরে চলা এই সংকটের কারণে ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী তেল কিনতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন মাত্র ১ লিটার, কিন্তু দোকানে ৫ লিটারের বোতলই আছে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের গ্রাহকরা খোলা তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তবে দাম বাড়ায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।