নিহত আবুল কালাম চাকলাদার (৫৫) সদর উপজেলার রণবিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং হাতেম আলী চাকলাদারের ছেলে। তিনি ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বজনদের দাবি, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারের সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে শিল্পী আক্তার বাগেরহাট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা রোড এলাকার সোহেল কবির (পিকআপ সোহেল) নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তারা বাগেরহাট শহরে বসবাস করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আবুল কালাম চাকলাদার নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে স্বজন ইয়াসমিন বেগম তাকে খাবার দিতে বাড়িতে যান। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন। ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান, জানালার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় খাটে বসে আছেন আবুল কালাম চাকলাদার। কাছে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
ইয়াসমিন বেগমের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তার মনে হচ্ছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল বলেন, “আবুল কালাম চাকলাদার ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। যতদূর জানি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাই।”
বাগেরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”