এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’। এর মূল বার্তা হলো, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পথে বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত বাধা দূর করে প্রত্যেক মানুষের জন্য সমানভাবে পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহজনিত একটি রোগ, যা প্রধানত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। ভাইরাল হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন থাকলেও হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এসব সংক্রমণ থেকে লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তারা জানান, বর্তমানে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কার্যকর টিকা, নির্ভুল রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি এবং আধুনিক ওষুধ রয়েছে। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে নিরাপদ টিকা বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি-এর জন্য এমন ওষুধ রয়েছে, যা অধিকাংশ রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে সক্ষম। এছাড়া হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছেন। সচেতনতার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার, রোগ নিয়ে ভয়-লজ্জা, স্বাস্থ্যসেবার সীমিত প্রাপ্যতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, সময়মতো চিকিৎসা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে এ বিষয়গুলোতেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।