সান্তোসে ফেরার পরও বদলায়নি সেই চিত্র। এবার পালমেইরাসের বিপক্ষে কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। শুক্রবার করা মেডিকেল পরীক্ষায় তাঁর ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ-২বি ইনজুরি ধরা পড়েছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, এই চোট থেকে সেরে উঠতে চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও প্রায় দুই মাসের আগে তাঁর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে চোটের প্রকৃত মাত্রা এবং পুনর্বাসনে তাঁর শরীর কেমন সাড়া দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রত্যাবর্তনের সময়।
নেইমারের জন্য সবচেয়ে হতাশার বিষয় নতুন এই চোট নয়, বরং চোটের পুনরাবৃত্তি। সান্তোসে ফেরার পর থেকেই একের পর এক শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন তিনি। বাম উরু থেকে ডান উরু, বাম হাঁটুর মেনিস্কাস থেকে ডান কাফ—বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চোট কেড়ে নিয়েছে তাঁর মাঠে থাকার সময়।
প্রতিবারই নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা শেষে, কখনো তারও পরে মাঠে ফিরতে হয়েছে নেইমারকে। চোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী দ্রুত ফিরে এসে সবাইকে চমকে দেওয়ার সুযোগও যেন পাচ্ছেন না তিনি। ফলে এবারও তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না সান্তোস। দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লাবটি।
নেইমারের অনুপস্থিতি সান্তোসের জন্যও বড় ধাক্কা। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটি রোববার ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে মাঠে নামবে তাঁকে ছাড়াই। শুধু লিগ নয়, কোপা সুদামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালেও নেইমারের সার্ভিস পাবে না সান্তোস।
তবে সান্তোসের দুর্ভাগ্য যেন এখানেই থামেনি। পালমেইরাসের বিপক্ষে একই ম্যাচে চোট পেয়েছেন ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো ও ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়ালও। ভেরিসিমোর ডান গোড়ালিতে মচকেছে। আর বারেয়ালের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে বাম উরুর বাইসেপস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ-২এ টিয়ার।
গুরুত্বপূর্ণ তিন খেলোয়াড়কে একসঙ্গে হারিয়েছে সান্তোস। তবে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি হবে নেইমারকে ঘিরেই। কারণ তাঁর উপস্থিতি শুধু একজন ফুটবলারের উপস্থিতি নয়; সান্তোসের আক্রমণ, সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং দলের আত্মবিশ্বাস—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।
একসময় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা নেইমারকে থামানোর পরিকল্পনা করতেন। এখন যেন তাঁকে থামিয়ে দিচ্ছে তাঁর নিজের শরীর। প্রতিবার ফেরার পর নতুন করে আশার জন্ম হয়, আর নতুন চোট সেই আশাকে আবারও অপেক্ষায় পরিণত করে।
নেইমারের সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি কবে ফিরবেন—তা নয়; বরং ফিরে এবার কতটা সময় সুস্থ থাকতে পারবেন!