বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক তারকা খেলোয়াড় এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীদের নাম সামনে আনতে শুরু করেছে। বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা, কোচিং কৌশল এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলকে এবার ট্রফি জয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেন আবারও তাদের হারানো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। তরুণ প্রতিভা এবং অভিজ্ঞদের দারুণ এক সমন্বয়ে গড়া স্প্যানিশ দলটি বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের প্রথাগত বল দখলভিত্তিক দৃষ্টিনন্দন খেলা (পজিশনাল ফুটবল) এবং মধ্যমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ।
নজরে থাকবেন: লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামস।
গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধারাবাহিক ও শক্তিশালী দল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপরা এবারও কাগজে-কলমে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্কোয়াডগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরাসি দলের গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের অন্যতম প্রধান ফেবারিট করে তুলেছে।
নজরে থাকবেন: কিলিয়ান এমবাপ্পে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও উইলিয়াম সালিবা।
২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার নামবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশনে। সময়ের পরিক্রমায় দলে কিছু পরিবর্তন এলেও আলবিসেলেস্তেদের দলগত রসায়ন এবং জয়ের তীব্র মানসিকতা এখনও অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে। অনেকের মতে, এটিই হতে যাচ্ছে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ফলে পুরো দল অধিনায়ককে আরও একটি বিশ্বকাপ উপহার দিতে তাদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেবে।
নজরে থাকবেন: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজ।
ইংল্যান্ডের বর্তমান স্কোয়াডকে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক গত ৩০ বছরের মধ্যে তাদের সেরা দল বলে অভিহিত করছেন। প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বমানের তারকা খেলোয়াড় রয়েছে ইংলিশদের। তবে অতীতে বহুবার দেখা গেছে, বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের স্নায়ুচাপ তারা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার সেই মানসিক বাধা কাটাতে পারলে থ্রি-লায়ন্সদের সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়।
নজরে থাকবেন: হ্যারি কেন, জুড বেলিংহাম ও বুকায়ো সাকা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হেক্সা (ষষ্ঠ) শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটিতে মাঠ ও মাঠের বাইরে কিছুটা অস্থিরতা ও ছন্দহীনতা দেখা গেলেও সেলেসাওদের ঐতিহ্য আর প্রতিভাকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। যেকোনো মুহূর্তে জ্বলে উঠে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের।
নজরে থাকবেন: ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো ও রাফিনহা।
বর্তমান ফর্ম ও আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষকদের একাংশ সম্ভাব্য সেমিফাইনালের একটি আগাম চিত্র দাঁড় করিয়েছেন। তাদের মতে, শেষ চারের লড়াইটি হতে পারে এমন: স্পেন বনাম ফ্রান্স; আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড।
তবে ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, ব্রাজিল, পর্তুগাল, জার্মানি কিংবা নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলো যেকোনো দিন যেকোনো সমীকরণ ওলটপালট করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।