মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতা কিলিয়ান এমবাপে ইতোমধ্যেই নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হিসেবে পুরোপুরি জায়গা করে নিতে এখনও বড় মঞ্চে আরও কিছু অর্জনের অপেক্ষায় তিনি। অন্যদিকে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরাও এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের আলাদাভাবে প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, ২০২৬ বিশ্বকাপে নজরে থাকতে পারেন যেসব ১০ ফুটবলার—
লিওনেল মেসি
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর মাধ্যমে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন মেসি। ক্লাব, দেশ ও ব্যক্তিগত অর্জনে প্রায় সবকিছু জেতা এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা তখনই নিজেকে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তবে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকাকে ঘিরে কিছুটা দুশ্চিন্তাও আছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন মেসি। যদিও তাকে রেখেই ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই জিতেছেন রোনালদো। তবে বিশ্বকাপ এখনও অধরাই রয়ে গেছে পর্তুগিজ মহাতারকার। ৪১ বছর বয়সেও গোল করার ক্ষুধা কমেনি তার। সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন তিনি।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের মালিক রোনালদো বিশ্বকাপ বাছাইয়েও করেছেন রেকর্ড ৪১ গোল। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য সাফল্যের পর এবার হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
কিলিয়ান এমবাপে
বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী সুপারস্টার হিসেবে এমবাপেকে দেখা হয় অনেকদিন ধরেই। বিশ্বকাপ জিতলেও এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ব্যালন ডি’অর না জেতায় তাকে নিয়ে আলোচনা থামেনি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চলেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। লা লিগায় ৩১ ম্যাচে ২৫ গোলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১১ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। এবার ফ্রান্সকে আরেকটি বিশ্বকাপ এনে দিতে পারলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন তিনি।
উসমান দেম্বেলে
একসময় ইনজুরি আর অফফর্মে হারিয়ে যেতে বসা দেম্বেলে এখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর যেন নতুন জীবন পেয়েছেন তিনি।
দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী এই ফরাসি তারকা চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ১৩ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের বড় ভরসা হতে পারেন তিনি।
আর্লিং হালান্ড
ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড এবার খেলতে যাচ্ছেন নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের পর গোল করে ইতোমধ্যেই রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ে হয়তো ফেবারিট নয়, কিন্তু হালান্ড একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।
লামিন ইয়ামাল
স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামালকে ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের মেসি বলা হচ্ছে। ২০২৪ ইউরোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন তিনি।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন ইয়ামাল। গতি, স্কিল ও আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন।
জুড বেলিংহাম
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ড সেনসেশন জুড বেলিংহাম ইতোমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জয়ের পাশাপাশি ইউরোতেও ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, গোল করা এবং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতায় বেলিংহাম ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আশা।
নেইমার
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারেননি নেইমার। ইনজুরি ও অফফর্মের কারণে গত কয়েক বছর কঠিন সময় পার করেছেন তিনি।
তবুও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থা রয়েছে তার ওপর। ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপে নিজের স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
মোহামেদ সালাহ
মিশরের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সালাহ। লিভারপুলের হয়ে অসাধারণ সফল ক্যারিয়ার গড়লেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তার।
৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনও মিশরের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশ্বকাপে নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারলে তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবেন।
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের পোস্টার বয় বলা হয় পুলিসিককে। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে এসি মিলানে দারুণ ফর্মে আছেন এই ফরোয়ার্ড।
ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক দূর নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন পুলিসিক। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচেও গোল ও অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রস্তুতির জানান দিয়েছেন তিনি।