প্রয়াত পেলের ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা ১০ নম্বর জার্সিটি আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে একটি অনলাইন নিলামে তোলা হবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছে সোথবিস।
সোথবিসের আধুনিক সংগ্রহযোগ্য পণ্যের প্রধান ব্রাহম ওয়াচটার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের রাজত্ব শুরুর রাতে তার পরা পোশাক ছিল এটি।’
এই জার্সিটি পেলে পরেছিলেন তার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে। এডসন আরান্তেস দু নাসসিমেন্তো-যিনি পেলে নামেই সর্বজনের কাছে পরিচিত। স্টকহোমের রাসুন্দা স্টেডিয়ামে সেদিন স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৫-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ১৭ বছর বয়সী। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা এখনও তার কাছে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পেলে। ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর তিনি এই হাতে তৈরি জার্সিটি তার রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন। জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছেই সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে এটি ব্রাজিলের একটি জাদুঘরে রাখা হয় এবং সবশেষে ২০০৪ সালে একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান মালিক এটি সংগ্রহ করেন।
জার্সিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ডলার। যদি এই মূল্যে এটি বিক্রি হয়, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র তিনবার ট্রফি জয়ী এই কিংবদন্তির যেকোনো স্মারক বিক্রির রেকর্ডে এটিই হবে সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রী।
নিলাম চলাকালীন সময়ে আগামী ১ জুলাই থেকে নিউইয়র্কের সোথবিস ব্রুয়ের ভবনে সাধারণ জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য জার্সিটি উন্মুক্ত রাখা হবে।
ফুটবল ভক্ত এবং খেলোয়াড়দের মতে, সেই ফাইনালে এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির করা প্রথম গোলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। তিনি বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন, এরপর সুইডিশ ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বলটি ফ্লিক করে বের করে এনে দুর্দান্ত এক গোল করেন। আর দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের দিকে, একটি নিখুঁত হেডারের মাধ্যমে।
১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে পেলে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন। আর এই বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে সেই মেক্সিকো। সে সময় যে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তাকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখা গিয়েছিল, ঠিক সেই স্টেডিয়ামেই মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হবে।