বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে এবং মোটা অংকের বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশ থেকে সহজসরল মানুষদের নিয়ে এসে দাসে পরিণত করছে এই চক্রগুলো। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা অনেক অভিবাসীকে আইনি সুরক্ষাহীন করে তুলছে, যা প্রকারান্তরে পাচারকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন শিল্প, কারওয়াশ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং ফুড ডেলিভারি খাতের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে এই শোষণের হার সবচেয়ে বেশি।
শোষণের ধরণগুলো অত্যন্ত অমানবিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাদের চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মজুরিতে কিংবা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে তাদের দিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি করানো হচ্ছে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং আইনি জটিলতায় পড়ার ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারছেন না। এই চক্রে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইন এবং উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আইনি কাঠামো এই আধুনিক দাসত্ব রুখতে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। উদ্ধার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ব্যবস্থার অভাবে অনেক ভুক্তভোগী পুনরায় শোষণের চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি 'গুরুতর সামাজিক ও মানবিক সংকট' হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।