রোববার গভীর রাতে খুলনার রূপসা থানার জাবুসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নাসির শেখ ও তার সহযোগী চরমপন্থী সংগঠন 'বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি'র সদস্য। তারা 'গোফরান বাহিনীর' নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো। নাসির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টিরও বেশি মামলা এবং ১১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রামের তছির শেখের ছেলে নাসির শেখ ওরফে গোফরান শেখ (৪০) ও ইছামতি গ্রামের মিজানুর রহমান মোল্লার ছেলে সোহেল রানা (২৮)।
ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, গত ০১ মার্চ রাতে অভয়নগর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে হানা দেয় গোফরান বাহিনী। ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাড়ির মালিকের শয়নকক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি ইয়ামাহা R15 V3 মোটরসাইকেল, একটি এইচপি ল্যাপটপ এবং একটি ভিভো মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন সোহেল শিকদার।
এরপর ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার রূপসা থানাধীন জাবুসা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গোফরান বাহিনীর প্রধান নাসির শেখ ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি ইয়ামাহা R15 V3 মোটরসাইকেল, ১টি এইচপি ল্যাপটপ, ১টি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত নাসির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি চাঁদাবাজি, ৭টি অস্ত্র ও ২টি হত্যা মামলা এবং ১১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া তার সহযোগী সোহেল রানার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা রয়েছে। তারা যশোর ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল।