আগামী ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বন্দরনগরীতেই, আর শেষ ম্যাচটি হবে ঢাকায়।
ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীনই টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড চট্টগ্রামে পৌঁছে গেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্রামে কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। কেউ আড্ডায়, কেউ বাইরে ঘুরে সময় কাটালেও জুমার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেছেন দলের সদস্যরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে অনুশীলনে ফিরবে দল। ওয়ানডে সিরিজে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় এসেছে, সেই ধারাবাহিকতা টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখার প্রত্যাশা টিম ম্যানেজমেন্টের।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন আশা প্রকাশ করে বলেন, “ওয়ানডেতে দলীয় পারফরম্যান্স ভালো ছিল। টি-টোয়েন্টিতে সেটি আরও উন্নত হবে বলেই মনে করি।”
এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার মতো নিয়মিত পেসারদের। ফলে নতুনদের জন্য তৈরি হয়েছে সুযোগ। বিপিএলে পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
রাজশাহীর হয়ে বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন দুজনই। রিপন ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নেন, আর সাকলাইন ৯ ম্যাচে শিকার করেন ৯ উইকেট। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
অভিজ্ঞ পেসারদের অনুপস্থিতিতে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন তানজিম সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকবেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
নির্বাচকরা মনে করছেন, ব্যাকআপ তৈরি করাও এখন সময়ের দাবি। সামনে ব্যস্ত সূচি থাকায় নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে সাকলাইনকে নিয়ে আলাদা আশা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচের দিকে ব্যাটিং করার সক্ষমতা তাকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে অধিনায়ক লিটন দাসের ফর্মে ফেরাও দলের জন্য ইতিবাচক দিক। দীর্ঘদিন পর শেষ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে এটি দলের জন্য বড় স্বস্তি।
সব মিলিয়ে নতুন মুখ, নতুন পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য একটাই—ওয়ানডের সাফল্য ধরে রেখে আরেকটি সিরিজ জয়।