পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নওগাঁ, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তেল, গ্যাস, কয়লা ও কঠিন শিলাসহ মূল্যবান খনিজ সম্পদের উপস্থিতির সম্ভাবনা বহুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে—অনুসন্ধান শুরু হলেও তা বারবার থেমে গেছে।
জানা যায়, পাকিস্তান আমল থেকেই উত্তরাঞ্চলে খনিজ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পরও একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়নের আগেই থমকে যায়। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বড় উদ্যোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সম্ভাবনার কথা বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের মতে, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার তালিকায় এই খাতটি কখনোই গুরুত্ব পায়নি। ফলে জাতীয় সম্পদের বড় একটি অংশ এখনো মাটির নিচেই অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। কিন্তু বাস্তবে নীতিনির্ধারকদের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী জাতীয় কমিশন গঠন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ধারাবাহিক নীতি বাস্তবায়ন।
সব মিলিয়ে, উত্তরাঞ্চলের এই বিশাল খনিজ সম্ভাবনা এখন শুধু সম্ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—এই অবহেলার দায় শেষ পর্যন্ত কার, আর কবে মিলবে তার জবাব?