ত্রিপলীর বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১৭ মে তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত সেন্টারে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এসময় তিনি তাদের দ্রুত দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দূতাবাসের চলমান প্রচেষ্টার বিষয়ে অবহিত করেন।
একই সঙ্গে তিনি অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন।
এসময় অনেক অভিবাসী অনিয়মিত অভিবাসনের উদ্দেশ্যে নিজ ভিটেমাটিসহ সর্বস্ব হারানোর কথা জানান এবং লিবিয়ায় তাদের অমানবিক ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া, তারা দালালচক্রের প্রতারণা, দীর্ঘদিন আটক অবস্থায় থাকা এবং নানা ধরনের দুর্ভোগের বিষয় উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত তাদের এসব অভিজ্ঞতা দেশে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের মাধ্যমে অন্যদের সচেতন করার পরামর্শ দেন।
পরিদর্শনকালে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেখানে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
একইসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী ৩১ মে প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দূতাবাস কাজ করছে এবং অবশিষ্টদেরও দ্রুত সময়ে প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দূতাবাসের এই উদ্যোগে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের সৃষ্টি হয়।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।