শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউরা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমদাদুল হক মিলম, মো. সাকাওয়াত হোসেন ও মো. তানিম—এই তিন বন্ধু মিলে ২৭০ বর্গফুটের একটি টিনের ঘরে গড়ে তুলেছেন মাশরুমের ছোট্ট খামার।
তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের কাজও করেন তাঁরা। এর মধ্যেই নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকে ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে এ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইউটিউব থেকে চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সিলেট থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি উপকরণে তাঁদের খরচ পড়ে প্রায় ৪০ টাকা।
বর্তমানে তাঁদের খামারে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ কেজি মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত মাশরুম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিভিন্ন নামিদামি হোটেল ও বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন একাধিক অর্ডার আসছে। তবে উৎপাদন সীমিত হওয়ায় সব অর্ডার সরবরাহ করতে পারছেন না তাঁরা।
মাশরুম চাষে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বলেও জানিয়েছেন তিন বন্ধু। তাঁদের মতে, মাশরুম বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায় এবং এর ব্যবহার বাড়লে বাজারে চাহিদা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
তিন বন্ধুর লক্ষ্য, সরকারি সহযোগিতা পেলে উৎপাদন বাড়িয়ে খামারটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া। তাঁদের আশা, উদ্যোগটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছোট্ট একটি টিনের ঘরে ইউটিউবের ভিডিও দেখে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন তিন বন্ধুর কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ পেলে এই ক্ষুদ্র খামার একদিন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় উদ্যোগে পরিণত হবে।