সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশে সরবরাহ ও মজুত স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সাশ্রয় ও সরবরাহ বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। সরবরাহ ও মজুদ ঠিক আছে, সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও জানান, সরকার জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে বরং ভর্তুকির মাধ্যমে উচ্চমূল্যে তেল আমদানি করে জনগণের কাছে সহনীয় দামে সরবরাহ করছে। এ খাতে জুন পর্যন্ত সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
মানবিক উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং গাক চক্ষু হাসপাতাল-এর উদ্যোগে এই চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প পরিচালিত হয়। এতে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অঙ্গীকার। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবনে নতুন আলো ফিরিয়ে আনে।”
আসন্ন সফর ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য বগুড়া সফর আগামী ২০ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যদিও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সফরকালে তিনি ই-বেল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন, সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত ঘোষণা এবং বাগবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পারেন।
এ উপলক্ষে প্রস্তুতি হিসেবে ১৫ তারিখে ঢাকায় থেকে একটি প্রতিনিধিদল বগুড়ায় আসবে বলেও জানান তিনি।
কৃষি ও শিল্প উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মহাস্থান মোকামতলা এলাকায় একটি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
শিক্ষা খাতে বড় পরিকল্পনা
বগুড়ার উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বহাল থাকবে এবং এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর চিন্তাভাবনা চলছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বেসরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এ সময় সংশ্লিষ্ট এনজিও ও সংগঠনগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাক চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র পরিচালক ড. মাহবুব আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা প্রশাসন, চিকিৎসকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
শিবগঞ্জের এই আয়োজন শুধু একটি চিকিৎসা ক্যাম্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল জনসেবামূলক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন বার্তা—দুইয়ের সমন্বয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে তাৎপর্যপূর্ণ।