সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রায় ১৫৯ লিটারের সমান। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে তুলনামূলকভাবে কম খরচে তেল উত্তোলন সম্ভব; বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো দেশে উৎপাদন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রেই কম। তবে বিভিন্ন উৎস অনুযায়ী এই খরচ ক্ষেত্রভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এটি সব সময় নির্দিষ্ট ৫ ডলারে সীমাবদ্ধ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর (যেমন ব্রেন্ট বা ডব্লিউটিআই) চাহিদা-জোগান, ভূরাজনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উৎপাদন নীতির ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। ফলে উৎপাদন খরচ কম হলেও বিক্রয়মূল্য সরাসরি তার সঙ্গে অনুপাতিক নয়; বরং বাজার নির্ধারণ করে দাম।
একইভাবে তেল পরিশোধনের খরচও নির্দিষ্ট নয়। রিফাইনারি ভেদে এই খরচ পরিবর্তিত হয় এবং এতে পরিবহন, সংরক্ষণ ও করসহ নানা উপাদান যুক্ত থাকে।
পরিশোধনের পর এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেল থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায়; যেমন পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল, এলপিজি, লুব্রিক্যান্ট ও বিটুমিন। তবে এগুলোর পরিমাণ নির্ভর করে তেলের ধরন ও রিফাইনারির প্রযুক্তির ওপর। সাধারণত পেট্রোল ও ডিজেলই সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকে।
বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখে উৎপাদনকারী দেশগুলো। বিশেষ করে রাশিয়া ও সৌদি আরব বিশ্বের প্রধান উৎপাদক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের বড় ভোক্তা ও আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক দেশের নিজস্ব তেলসম্পদ থাকলেও তারা কৌশলগত কারণে তা সীমিতভাবে ব্যবহার করে এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে মজুত বাড়ায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয়।