বাগেরহাটের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শরণখোলা আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সোহাগ শেখ, হেলাল তালুকদার, রুহুল আমীন বাবু, কামরুজ্জামান, রিফাত আল মাহমুদ, সৈকত মণ্ডল, মেহেদী হাসান, সাগর মণ্ডল, শরিফাতুজ্জাহান, নুরুন্নাহার বেগম, শ্রাবণী মণ্ডল ও রেবা বেগমকে।
মামলার বাদী ইন্টিগ্রেটেড ফিজিসিয়ান মো. মাহামুদুল হাচান অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শরণখোলার রায়েন্দা বাজার এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। এলাকায় তার পেশাগত সুনাম ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, মানহানি এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ মে বিকেলে একটি সংঘবদ্ধ দল তার চেম্বারে প্রবেশ করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় চেম্বারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বাদীকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৪০৬, ৪২০, ৩৪২, ৩৮৫, ৪১৯, ৪৫২, ৪২৭, ৫০০, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-কে দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মাহামুদুল হাচানের চেম্বারে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু লোকজন মব সৃষ্টি করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। কোনো সাংবাদিক চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করেনি।”
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।