বিবিসি জানাচ্ছে, অভিবাসীদের সমকামী সাজতে সাহায্য করছে একদল অসাধু ল ফার্ম ও আইনি পরামর্শক। এর বিনিময়ে তারা অভিবাসন প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষপর্যায়ে, তাদের ভুয়া ‘কাহিনি’ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রমাণ হিসেবে ভুয়া সমর্থনপত্র, ছবি এবং মেডিকেল রিপোর্ট তৈরিতেও সাহায্য করছে চক্রটি।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, একটি ল ফার্ম ভুয়া অ্যাসাইলামের আবেদন করতে ৭ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি টাকা) পর্যন্ত দাবি করেছে। তারা গ্যারান্টি দিচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আবেদন শক্তিশালী করতে অভিবাসীরা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মিথ্যা মানসিক বিষণ্নতার অভিনয় করছেন এবং তাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিচ্ছেন।
লন্ডনে ওরচেস্টার এলজিবিটি নামক একটি সংগঠনের সভায় ১৭৫ জনের বেশি মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিবিসির ছদ্মবেশী প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে ১ শতাংশও সমকামী নন। তারা শুধু নিজেকে সমকামী প্রমাণের জন্য এসব সভায় যোগ দেন।
এর মধ্যে একজন জানান, তার আইনজীবী তাকে বলেছেন, প্রথম চেষ্টায় তিনি যদি সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম পেয়ে যান, তাহলে পরে তার স্ত্রীকে লেসবিয়ান সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা যাবে।
বিবিসির ছদ্মবেশী প্রতিবেদক নিজেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে এই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তানিসা খান নামের একজন পরামর্শক তাকে বলেন, ‘এখানে আসলে কেউ সমকামী নয়। তবে অ্যাসাইলাম পাওয়ার এটাই সহজ পথ এবং সবাই এই পথেই অ্যাসাইলাম আবেদন করছে।’
কনাট ল নামক একটি নামী ফার্মের আইনি পরামর্শক আকিল আব্বাসিও একই ধরনের জালিয়াতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘আগে আপনার স্ত্রী ছিল। কিন্তু ভিসা সাক্ষাৎকারে বলতে হবে, আপনি যুক্তরাজ্যে এসে নিজের পছন্দের পুরুষ সঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে অ্যাসাইলামের আবেদন পড়েছে ১ লাখের বেশি। যার মধ্যে ৩৫ হাজারই ভুয়া। যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশটিতে অ্যাসাইলাম আবেদনের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানিরা (৪২%)।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা সুযোগের অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তাদের যুক্তরাজ্য থেকে বেরও করে দেওয়া হতে পারে।
রিফিউজি কাউন্সিলের পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, ‘অসাধু পরামর্শকরা অসহায় মানুষদের ব্যবহার করে ব্যবসা করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি প্রকৃত বিপদগ্রস্ত শরণার্থীদের অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
সম্প্রতি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন নীতি কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন নীতি অনুযায়ী, দেশটিতে এখন থেকে অ্যাসাইলাম দেওয়া হবে অস্থায়ী ভিত্তিতে। এবং প্রতি ৩০ মাস পরপর তাদের অবস্থা যাচাই করা হবে। তবে এই কড়াকড়ির মধ্যেও জালিয়াত চক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি।